Thursday, May 30, 2013

ভালবাসা - পার্ট ২

"সখী ভালবাসা কারে কয়?"

রবি বাবুর মতো লোক যেখানে ভালবাসার সংজ্ঞা জানে না, আমি কোন ছার ? তবু এই লেখার শেষে ভালবাসা সম্পর্কে আমার আবিষ্কৃত একটা সংজ্ঞা দিবো।

এই লেখাটা একটা আবাল মার্কা লেখা। কি লিখব কে জানে !

#১
আমার এক ফ্রেন্ড, ধরি এক্স। বিকালে বাসায় আসলো। পিসি তে বইসা কাজ করতেসে, করতেসে। আচমকা Unknown নাম্বার থেকে কল আসলো অর ফোনে। ফোন পিক কইরা হ্যালো, স্লামালিকুম বলসে মাত্র............ দেখলাম ওর চোখমুখ অন্ধকার হইয়া গেল :(
-কি হইসে?
- ওআই এর বাপ কল দিসে :(      (ওআই ওর GF)
- ক্যান ?
-কালকা বাসায় ধরা খাইসে আমার সাথে কথা বলতে গিয়া, ওর বাপে ফোন রাইখা দিসে :(
- ও

কিছুক্ষন পর......   আমারে জিজ্ঞাস করতেসে...।

-দোস্ত সিগারেট খাইলে Frustration কমে? 
-হুম ম ম  ম......... না, কমে না।
- মাল খাইলে? (মদ)
-নাহ
- দোস্ত, মনটা খুব খারাপ, কালকে রাতে ঘুমাইতে পারি নাই। 
- হম (চাপা দীর্ঘশ্বাস)

#২ (#১ এর ই কাহিনী )

এক্স নিজ থেকেই বলতেসে
- ওরে কইলাম যে তোমার ফেসবুক আইডি টা তোমার বান্ধবীরে ইউস করতে দিওনা। প্রব্লেম হবে।
কোন কথাই শুনলনা। 
-ওর আইডি অন্য মাইয়া ইউস করে এইডা কেমুন কথা?
-আর কইস না :/ ওই মাইয়া ওর আইডি ইউস করে, ওই আইডি তে পোলাপান মেসেজ দেয়, ওর নাম্বার পর্যন্ত পোলাপানের কাছে আছে :( কে যেন খালি এসএমএস, মিস কল দেয়।
-বাহ ভালো তো। পোলারা মাইয়ার নাম্বার খুইজা পায় না , আর তোমার বাল(!)বাসার নাম্বার সবার কাছে।
ভালো, ভালো
- ওরে কত কইরা বুঝাইলাম যে তোমার আইডি তোমার বান্ধবী ইউস করলে অন্য কেউ তো আর বুঝবে না। ও কয় ওর বান্ধবী থেকে আইডি ফেরত নিতে পারবে না। ওর নাকি লজ্জা করে ফেরত চাইতে 

মোদ্দা কথা মাইয়ার আইডি ওর বান্ধবী ইউস করে। কিন্তু মাইয়া এইটা বুঝতে বা মানতে চায় না যে একজনের আইডি অন্য কেউ ইউস করলে প্রব্লেম হইতে পারে।
ওহ, ভালো কথা মাইয়ার আইডি যে ইউস করে সে ওই আইডি দিয়া এক পোলার সাথে রেগুলার চ্যাট করে। (পোলা তো ভাবে এইটা ওআই, মাগার ডাল মে কুচ কালা হ্যাঁয় চান্দু)


এইবার, সুধী ... এইবার আমার প্রশ্ন #১ আর #২ এর মধ্যে ভালবাসা কোনটা ?

মাইয়া তো বুঝতেই চাইলো না। না বুইঝা আবালের মতো কাজ করতে গিয়া বাপের কাছে ধরা খাইল। প্রেমিক বেচারার তো ঘুম হারাম। এই ভালবাসা? ভালবাসার মানুষের চেয়ে বন্ধু বড় ?

পোলা... তোমার ও দোষ কম না। যে তোমার ভালবাসার দাম গত ৪ বছরে একবারও দিল না, তার জন্য আর কত ???

জাউগগা...এইবার নিজের কথা বলি। 
আমার মতে ভালবাসা হইল ৬০% বিশ্বাস,২০% Understanding আর ২০% সন্মান।
তবে ২ পক্ষেই এগুলা সমান হওয়া বাঞ্ছনিয়।


ভালবাসা বড় আজব। আমার সাথে মেলে না :/  

ওহহো, ভালো কথা আমার বন্ধুর ফোনে যে Unknown নাম্বার থেকে ফোন আসছিল সেটা আমাদের এক ফ্রেন্ড এর :D . ফ্রেন্ড তো হেব্বি খুশি, ওর জন্য ওর জিএফ আজকে বাসায় বকা খাবে না। আনন্দে আমারে ১ খান সিগারেট খাওাইলো।

Monday, May 20, 2013

ভালবাসা



"ভালবাসা কারে কয়?
সেকি বাঁধা পড়ে রয়?
সেকি শুধু শেষ তুমি আমিতে?


ভালবাসা তারে কয়
যে নিজে পড়ে রয়
বাঁধা পড়ে বাধাহীন বাঁধনে"

ভালবাসা আমার কাছে আসলেই বোধগম্য না। ভালবাসা কি চায়, আমি কি চাই, অন্যরা কি চায় কিছুই বুঝি না। ভালবাসা এক গোলকধাঁধা আমার কাছে। যাই হোক অফ টপিক ছাইরা কাজের কথায় আসি . . . 


"জীবন থেকে ২২ টা বছর পার হয়ে গেল, এখনও কোন মেয়ে আমাকে পটাইতে পারল না"
এরকম একটা স্ট্যাটাস ফেসবুকে দিছিলাম একবার। নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারলেও মনে হয় আরও ভালো হইত।
স্ট্যাটাস দেওয়ার এক মাস পর্যন্ত বন্ধুদের ব্যাঙ্গাত্তক আর টিটকারি মার্কা কথা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হইছে। বাল। কোন দুঃখে যে স্ট্যাটাস টা দিছিলাম :(

"প্রেম করস ? " যারা আমাকে খুব একটা জানে না তাদের প্রশ্ন।
"প্রেম করস না ক্যান? " যারা আমাকে মোটামুটি জানে তাদের প্রশ্ন।
"কখনও কি প্রেম করতে ইচ্ছা করে না ?" যারা আমাকে ভালো জানে তাদের প্রশ্ন।

১ম টাইপের জন্য আমার রেডি উত্তর- "চেষ্টায় আছি"
২য় টাইপের জন্য- "শিওর না। দেখি কি করা যায়। একটা সুন্দর দেইখা মাইয়া জোগাড় কইরা দে।"
৩য় টাইপ পাবলিক জানে যে আমার দ্বারা আর যাই হোক প্রেম হইব না, তাও ক্যান যে প্যাচর প্যাচর করে খোদা মালুম।

প্রেম করতে যে একেবারে ইচ্ছা করে না তা না। কিন্তু অনেকগুলা কিন্তু আছে।
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় কিন্তু বলে কিছু নাই। সবগুলাই 'কিন্তু' আর সবগুলাই ইম্পরট্যান্ট।
একটা 'কিন্তু' হইল আমি একটু অন্যরকম। রিকশায় করে মেয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, ফোন করে ভাত খাইছ? কি দিয়া খাইছ? ক্যান খাও নাই ? এই টাইপ পুতু পুতু কাজ কর্ম করতে পারি না।  আরে বাপ ক্ষুদা লাগে নাই, খায় নাই ব্যাস। এত বিষ ক্যান?

এরপর, প্রেম করা মানে কি ? মাইয়ারে নিয়া সপ্তাহে কমে ১ দিন রেস্টুরেন্ট এ যাওয়া অতি আবশ্যকীয় । রিকশা, ট্যাক্সি ভাড়া, ফোনের বিল সব তোমারেই দেওন লাগব। এখন বলেন এইগুলা কি আমার দ্বারা সম্ভব ? টাকার অভাবে ঠিকমতো জরুরি কাজ করতে পারি না, আবার প্রেম !

আরও আছে, ফোনে ওয়েটিং পাইলে তো জান শেষ। কি করতাছিলা, কার লগে কথা কও ? এত কথা কিসের ? আরও কত রকম আজব কথা ! আরে! আমার ফোন, আমি যার লগে ইচ্ছা কথা বলব, যতক্ষণ ইচ্ছা বলব। তর কি ? তর লগে যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলি তখন মনে থাকে না।

আরও আছে, ...
থাক আর বলতে ইচ্ছা করতেছে না, মনেও নাই সবগুলা। মনে পরলে আবার লিখব।
তবে , শেষ করার আগে একখান কথা। আমার এই লেখা পড়ে যাদের মনে হচ্ছে এইটা ছ্যাঁক খাইয়া পরটা হওয়া কোন দেবদাস এর রাগ বা দুঃখের কাহিনি তারা মুড়ি খান। আমি জীবনে এখন পর্যন্ত প্রেম করি নাই  (করব না, এরকম কিছু কিন্তু বলি নাই :P ) এইসব  অভিজ্ঞতা আমার বন্ধু মহল থেকে পাওয়া।        

নিজের হইলে না জানি কি হইতো ! 

আজব স্বপ্ন

আজব একটা স্বপ্ন দেখলাম আজকে রাতে। স্বপ্নের চরিত্ররা হলেন জনৈক চুন্নি সাহা, আমি আর আমার বন্ধু শেখ শহীদ রিচার্ড।রিচার্ড এর খুব শখ মানুষের ইন্টারভিউ নেয়ার।
তো স্বপ্নে যা দেখলাম -আমি আর রিচার্ড কথা বলতে বলতে হাটতেসি.........
হটাৎ দেখি হাসপাতাল গেট এ বিশাল জটলা। সামনে গিয়ে দেখি জনৈক চুন্নি সাহা কান ধরে উঠবস করতেসে। রিচার্ড তো লাল। ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকেই চুন্নি সাহারে জিজ্ঞাস করল "এই যে আপনি কান ধরেউঠবস করতেসেন, আপনার অনুভূতি কি ?"
আচমকা কে যেন পিছন থেকে বলে উঠল "চরম অনুভূতি"
রিচার্ড আবার জিজ্ঞাস করে "উনি যা বলল তা কি সত্যি ?"
চুন্নি বলে - " আহ মামা , সেই অনুভূতি "

চুন্নি রকস
রিচার্ড শকস 

বিঃদ্রঃ এটি একটি স্বপ্নে পাওয়া স্বপ্ন। পৃথিবী বা পৃথিবীর বাইরে, মৃত বা অর্ধমৃত কারো সাথে মিল পাইলে মুড়ি খান। জীবিত কারো সাথে মিল পাইলে বেশি কইরা মুড়ি খান
আচমকা কে যেন পিছন থেকে বলে উঠল "চরম অনুভূতি"রিচার্ড আবার জিজ্ঞাস করে "উনি যা বলল তা কি সত্যি ?"চুন্নি বলে - " আহ মামা , সেই অনুভূতি "
চুন্নি রকস রিচার্ড শকস 

বিঃদ্রঃ এটি একটি স্বপ্নে পাওয়া স্বপ্ন। পৃথিবী বা পৃথিবীর বাইরে, মৃত বা অর্ধমৃত কারো সাথে মিল পাইলে মুড়ি খান। জীবিত কারো সাথে মিল পাইলে বেশি কইরা মুড়ি খান

Thursday, May 16, 2013

মহাসেন


মহাসেন ইজ কামিং। কামিং মানে কামিং। কখন কামিং কেউ জানে না। আমার মেজাজ চরমে উঠতেসে। আসে না ক্যান, আসে না ক্যান। কত দিন দেখা হয় না।
২ দিন ধরে মহাসেন বাবা আসতেসে।। এখনও পৌঁছায় নাই :(
আরে বাপ আসবি যখন জলদি আয়, এত গরিমসি ক্যান ?

বিকালে বের হলাম আড্ডা দেওয়ার জন্য । ২ ফ্রেন্ড ছিল। আমি পৌঁছাতে পারি নাই, বলে যাইগা। মহু বাবু আইতাসে।
- মহু আইলে তর কি ?
- বাসা থেকে ফোন দিছে, যাইতে বলে।
- যা তাইলে, কি আর করা :/

ফোন দিলাম আরেক ফ্রেন্ড রে............
- হ্যালো
-এলো
-কই তুই ? বাইরাবি?
-নারে, মহাসেন আইতাছে
-তো ?
-বাইর হমু না।
- মুরগির ছাও   :@

এত সুন্দর বিকাল আর সবগুলা মুরগির মতো খোপে গিয়া ঢুকছে ।
কি আর করা। বাসায় গেলাম। ইলেক্ট্রিসিটি নাই। ছোট বোনের সাথে কিছুক্ষন রেসলিং খেললাম। ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।  ইলেক্ট্রিসিটি চইলা আসলো। বসলাম পিসি তে।
বাসায় আসার পর মোটামুটি ঘণ্টা গেল।
মুরগির ছাও এর ফোন।

-কই?
বাসায়
-বাইর হ
-হম, আইতাছি

এই হইল পরিস্থিতি। সবসময় কনফিউশন।

মহাসেন মনে হয় আমার ফেরেনড্ ছিল কোন কালে। পুরা আমার মতো, কনফিউসড। কই যায় কি করে ঠিক ঠিকানা নাই।

চট্টগ্রামে ব্যাপক বাতাস। হালকা পাতলা বৃষ্টি ও হচ্ছে। সিগারেট দরকার। বের হব কিনা বুজতেছি না

Wednesday, May 15, 2013

মায়া


দুনিয়াতে আমার অনুভূত সবচেয়ে অদ্ভুত আর বিরক্তিকর (ভাব নিলাম :P মাঝে মাঝে ভালই লাগে) জিনিস হচ্ছে মায়া। মায়ায় জড়ানো খুব সহজ। কিন্তু বের হওয়া অসম্ভব পরজায়ের কাজ। অন্তত আমার নিজের অভিজ্ঞতা তাই বলে। মায়া মুক্ত হওয়া আমার মতো সাধারনের সাধ্যের বাইরে। আমার মনে হয় যারা মায়া মুক্ত তারা মহাপুরুষ পর্যায়ের লোক। হিমুর মতো...

মায়া না থাকার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলঃ মায়া না থাকলে পিছুটান থাকে না। আর No পিছুটান মানে No টেনশন। 
আমি বড়ই অভাগা। কথায় আছে " অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকায়ে যায়।"
চিন্তা করলাম জীবনে তো কিছুই করতে পারলাম না, দেখি মহাপুরুষ হওয়া যায় কিনা। মহাপুরুষ হতে হলে কি করতে হয়?
- হুম, ঠিক ধরেছেন। মায়া কাটাতে হয়।
যেই ভাবা সেই কাজ। মায়া কাটানোর কাজে কোমর বেঁধে নামলাম। আগের মতো বন্ধুদের নিজে থেকে কল দেই না, কেউ কল করে বলল "জলদি আয়", তাহলে আগের মতো ঘূর্ণিঝড় বেগে তার সামনে উপস্থিত হই না, পারলে ফোন অফ করে বসে থাকি।

আড্ডায় আমি বরাবরই নির্বাক শ্রোতা। বলার চেয়ে শোনায় বেশি আনন্দ। অনেক সুখ দুঃখের কথা হয়। আগে কোন ফ্রেন্ড বিপদে পরলে চেষ্টা করতাম হেল্প করার। এখন যেহেতু মায়ামুক্তি চলছে তাই No help :)
দেখি কি করা যায় টাইপ কথা বলে কাটান দেই। 
 ভালই যাচ্ছে দিন......

সকাল সাড়ে ৯ টা। আব্বার ডাকে ঘুম ভাঙল। আব্বা বলল ১০ টার মধ্যে মামার বাসায় যেতে হবে, দাওয়াত আছে। সেখানে আমাদের অনেক আত্মীয় স্বজন থাকবে।
আমার মাথায় তো মায়ামুক্তি। ভাবলাম বেশ একটা Chance পাইলাম। আমি যাব না। যাব না মানে যাব না।
আব্বা ব্যাপক চেষ্টা করল মাগার আমারে নড়াইতে পারে না। ভালো কথা।
বাসায় আমি আর আব্বা। খাওয়া দাওার ঝামেলা নাই। ভাবলাম একটা ঘুম দেই। ঘুমন্ত অবস্থায় ১০ মিনিট যেতে পারে নাই। দেখি কে যেন আমাকে ধাক্কাচ্ছে। চোখ খুলে দেখি আব্বা।     হাতে মোবাইল। আমার দিকে এগিয়ে দিল। কানে দিলাম। আমার নানি। :(

- তুমি আসবা না ?
- না নানু, আমি ঘুমাব।
-কেন ? আসবা না কেন? তোমার আনটি, মামারা সব এখানে আসছে আর তুমি আসবা না কেন ?
-আমার কাজ আছে, পরে আসব। 
-না আসলে না আসো , মনে রাইখ আমি দুই দিন পর মইরা যাবো , তখন মনে করবা নানু আমারে বলছিল, আমি যাই নাই
 নানুর কথা শেষ হইতে পারে নাই, বড় মামার গলা...
-কি তুমি আসবা না বাবা?
- না মামা, একটু কাজ আছে
-কি কাজ আছে? আজকে তোমার ভাইয়ের নাম রাখা হবে (আমার মামাতো ভাই) আর তুমি আসবা না ?
-মমম
-কি হু হু কর, চইলা আসো।ভাড়া আছে ? না থাকলে আসো আমি দিয়া দিবো। তাড়াতাড়ি আসো।

বিপ বিপ বিপ (ফোন কাটার আওয়াজ)

বলেন তো আমি কি করলাম ???
কি আর করবো? গেলাম। মায়ার কাছে পরাজিত হলাম আরেকবার।   

তবে নিরাশ হবার কিছু নাই, চেষ্টা চলছে । চলবে অবিরত। মহাপুরুষ আমাকে হতেই হবে।